হাদীসের আলোকে শাফায়াতে সায়্যিদুল মুরসালিন

  ---------- এমরান হোসেন

আজকাল শাফায়াত নিয়েও শুনা যাচ্ছে বেশ হাস্যকর কিছু বক্তব্য!  বাস্তবে এই বক্তব্যগুলো শুনে দুঃখ লাগার কথা থাকলেও না হেসে পারা যায়না।
যাইহোক ইদানিং শুনলাম কেউ একজন বলছে যে শাফায়াত এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নয় শাফায়াত এটা আল্লাহর জন্য! আল্লাহ হচ্ছেন একমাত্র শাফায়াতকারী!!
এই কথাগুলো যারাই বলে তাদেরকে শাফায়াতের মানে কি জিজ্ঞাস করলে আবার উত্তর দেয় সুপারিশ করা।আচ্ছা শাফায়াতের মানেই যদি হয় সুপারিশ করা তাহলে আল্লাহ কার কাছে সুপারিশ করবেন???(নাউজুবিল্লাহ)  যারা শাফায়াতটারে আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে তারা কি তাহলে আল্লাহর চাইতে অন্য কাউকে বড় মনে করে??(নাউজুবিল্লাহ)
প্রকৃত পক্ষে শাফায়াতের মালিক বা অধিকারী হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এই মর্মে অসংখ্য হাদীস রয়েছে তার মধ্য থেকে দলিল স্বরুপ নিম্নে কিছু হাদীস ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হল।

*রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে শাফায়াতের অধিকার দিয়ে দেওয়া হয়েছে*

#জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে, যা আমার আগে কোন নাবী কে দেয়া হয়নি।

১। আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যা একমাসের দূরত্ব পর্যন্ত অনুভূত হয়।
২। সমস্ত জমিন আমার জন্য সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের উপায় করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কেউ যেখানে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ওয়াক্ত হয় (সেখানেই) যেন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয়।
৩। আমার জন্য গণীমত হালাল করা হয়েছে।
৪। অন্যান্য নাবী নিজেদের বিশেষ গোত্রের প্রতি প্রেরিত হতেন আর আমাকে সকল মানবের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে।
*৫। আমাকে (ব্যাপক) শাফা’য়াতের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।*

[সহিহ বুখারী (ইফাঃ) হাদীস নম্বরঃ৪২৫]

*রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন প্রথম সুপারিশকারী ও প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি*

#আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কিয়ামতের দিনে আদম সন্তানদের নেতা হব এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর উন্মুক্ত করে দেয়া হবে এবং আমিই প্রথম সুপারিশকারী ও প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি।

[সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪১]

*উপরোক্ত হাদীস থেকে এটাও প্রমাণ হয় যে, কেয়ামতের ময়দানে কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ করবেন না আরও সুপারিশকারী থাকবেন যার কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তিনিই প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি।*

*রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনার দোয়াকে আখিরাতে  উম্মাতের শাফায়াতের জন্য রেখে দিয়েছেন*

#আবূ হুরাইরাহ  হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর এমন একটি দু‘আ রয়েছে, যা আল্লাহর নিকট) গৃহীত হয় আর নবী সে দু‘আ করে থাকেন। আমার ইচ্ছা, আমি আমার সে দু‘আর অধিকার আখিরাতে আমার উম্মাতের *শাফায়াতের* জন্য মুলতবি রাখি।

[সহীহ বুখারী (তাওহীদ) হাদিস নম্বরঃ ৬৩০৪]
[আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬০]
[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৩]
[মুসলিম ১/৮৬, হাঃ ১৯৮, ১৯৯, আহমাদ ৮৯৬৮]

#আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন যে, প্রত্যেক নাবীই যা চাওয়ার চেয়ে নিয়েছেন। অথবা নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নাবীকে যে দু‘আর অধিকার দেয়া হয়েছিল তিনি সে দু‘আ করে নিয়েছেন এবং তা কবূলও করা হয়েছে। কিন্তু আমি আমার দু‘আকে ক্বিয়ামাতের দিনে আমার উম্মাতের শাফায়াতের জন্য রেখে দিয়েছি।

[সহীহ বুখারী (তাওহীদ) হাদিস নম্বরঃ ৬৩০৫]
[আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬০]
[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৩]
[মুসলিম ১/৮৬, হাঃ ২০০, আহমাদ ১৩৭০৭]

*রাসূলের শাফায়াত ছড়া কেয়ামতের দিন বিচার কার্য্য শুরু হবেনা*

#আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানদারদেরকে ক্বিয়ামাতের দিন আবদ্ধ করে রাখা হবে। অবশেষে তারা অস্থির হয়ে যাবে এবং বলবে, আমরা যদি আমাদের রবের নিকট কারো দ্বারা শাফাআত করাই যিনি আমাদের স্বস্তি দান করেন। তারপর তারা আদাম (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, আপনিই তো সে আদাম, যিনি মনুষ্য জাতির পিতা, স্বয়ং আল্লাহ্ আপন হাত দিয়ে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আপনাকে বসবাসের সুযোগ দিয়েছেন তাঁর জান্নাতে, ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সাজদাহ করিয়েছেন এবং আপনাকে সব জিনিসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের এ জায়গা থেকে মুক্তি লাভের জন্য আপনার সেই রবের কাছে শাফাআত করুন।

তখন আদাম (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : এরপর তিনি নিষেধকৃত গাছের ফল খাওয়ার ভুলের কথাটি উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেন, বরং তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে যাও, যিনি পৃথিবীবাসীদের জন্য প্রেরিত নাবীগণের মধ্যে প্রথম নবী। তারপর তারা নূহ্ (আঃ)-এর কাছে এলে তিনি তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। আর তিনি না জেনে তাঁর রবের কাছে  প্রার্থনার ভুলের কথাটি উল্লেখ করবেন এবং বলবেন বরং তোমরা রাহমানের একনিষ্ঠ বন্ধু ইবরাহীমের কাছে যাও।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অতঃপর তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তখন ইবরাহীম (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। আর তিনি এমন তিনটি কথা উল্লেখ করবেন যেগুলো আসল ব্যাপারের উল্টো ছিল। পরে বলবেন, তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও তিনি আল্লাহর এমন এক বান্দা যাঁকে আল্লাহ্ তাওরাত দিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং গোপন কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁকে নৈকট্য দান করেন।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সবাই তখন মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি ওবলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। এবং তিনি হত্যার ভুলের কথা উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেন, তোমরা বরং ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। যিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর রূহ ও বাণী।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারা সবাই তখন ‘ঈসা (লা)-এর কাছে আসবে। ‘ঈসা (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। তিনি বলবেন, তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর এমন এক বান্দা যাঁর আগের ও পরের ভুল তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তখন তারা আমার কাছে আসবে। আমি তখন আমার রবের কাছে তাঁর নিকট হাযির হবার অনুমতি চাইব। আমাকে তাঁর কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। তাঁর দর্শন লাভের সঙ্গে সঙ্গে আমি সাজদাহ্য় পড়ে যাবো। তিনি আমাকে সে হালতে যতক্ষণ চাইবেন রাখবেন।

অতঃপর আল্লাহ্ বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা ওঠান; বলুন, আপনার কথা শোনা হবে, শাফাআত করুন, কবূল করা হবে, চান, আপনাকে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তখন আমি আমার মাথা ওঠাবো। তারপর আমি আমার প্রতিপালকের এমন স্তব ও স্ত্ততি করবো যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। অতঃপর আমি সুপারিশ করবো, তবে আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। ‘আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো।

বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, আমি বের হবো এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবো এবং জান্নাতে প্রবেশ করাব। তারপর আমি ফিরে এসে আমার প্রতিপালকের নিকট হাযির হওয়ার অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমি তাঁকে দেখার পর সাজদাহ্য় পড়ে যাব। আল্লাহ্ যতক্ষণ চাইবেন, আমাকে সে হালাতে রাখবেন। তারপর বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে, শাফা‘আত করুন, কবূল করা হবে, চান, দেয়া হবে।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর আমি আমার মাথা উঠাবো। আমার রবের এমন স্তব ও স্তুতি করব, যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দিবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ঃ এরপর আমি শাফাআত করব, আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তখন আমি বের হব এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করব এবং জান্নাতে প্রবেশ করাব। তারপর তৃতীয়বারের মত ফিরে আসব এবং আমার রবের নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমি তাকে দেখার পর সাজদাহ্য় পড়ে যাব। আল্লাহ্ আমাকে সে হালাতে রাখবেন, যতক্ষণ চাইবেন। অতঃপর আল্লাহ্ বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা উঠান এবং বলুন, শোনা হবে, সুপারিশ করুন, কবূল করা হবে, চান, দেয়া হবে।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি মাথা উঠিয়ে আমার রবের এমন স্তব ও স্তুতি করব, যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর আমি শাফাত করব, আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। তারপর আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সেখান থেকে বের হয়ে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাব। অবশেষে জাহান্নামে বাকী থাকবে কেবল তারা, কুরআন যাদেরকে আটকে রেখেছে। অর্থাৎ যাদের ওপর জাহান্নামের চিরবাস ওয়াজিব হয়ে পড়েছে। আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘শীঘ্রই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন’’- (সূরাহ ইসরা ১৭/৭৯) এবং তিনি বললেন এটিই হচ্ছে, তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য প্রতিশ্রুত ‘মাকামে মাহমূদ’

[সহীহ বুখারী (তাওহীদ) হাদিস নম্বরঃ ৭৪৪০]
[আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২২]
[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৩২]

*সাহাবায় কেরামগণের বিশ্বাস ছিল যে, রাসুল সাঃ কেয়ামতের দিন শাফায়াত করবেন*

#আবূ হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করা হলঃ হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভের ব্যাপারে কে সবচেয়ে অধিক সৌভাগ্যবান হবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ হুরাইরা! আমি মনে করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার পূর্বে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না। কেননা আমি দেখেছি হাদীসের প্রতি তোমার বিশেষ লোভ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি যে একনিষ্ঠচিত্তে لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ (আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে।

[ বুখারী (তাওহীদ) হাদীস নম্বরঃ ৯৯]
[আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮]
[ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯]

*কিছু কিছু আমল এমন আছে যেগুলো পালন করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাফায়াত পাওয়াটা নিশ্চিত*

#জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি আজান শোনার পর এ দোয়া পড়বে , “হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহবানের এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতে এর প্রতিপালক, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওসিলা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান কর। প্রতিষ্ঠিত কর তাকে মাকামে মাহমুদে, যার ওয়াদা তুমি করেছ”। কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার *শাফায়াত* অনিবার্য হয়ে যাবে। এ হাদিসটি হামযা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতার থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

[সহীহ বুখারী (ইফাঃ) হাদিস নম্বরঃ ৪৩৬০]

*আবু তালীবের জন্য নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শাফায়াত এবং তাতে তার আযাব কম হওয়া বিষয়েও একাদিক হাদীস রয়েছে।*

#আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাঁর চাচা আবূ তালিবের কথা আলোচিত হলে তিনি বলেনঃ কিয়ামত দিবসে তাঁর ব্যাপারে আমার সুপারিশ কাজে আসবে বলে আশা রয়েছে। তাঁকে জাহান্নামের উপরিভাগে এমনভাবে রাখা হবে যে, আগুন তার পায়ের গিরা পর্যন্ত পৌছবে; এতেই তার মগজ উথ্‌লাতে থাকবে।

[ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) হাদিস নম্বরঃ ৪০৬]

সুতরাং উপরোক্ত হাদীসগুলোর দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামতের ময়দানে কঠিন মুসিবতের সময় আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন এবং তিনি শাফায়াতওয়ালা নবী তিনিই শাফিউল মুজনিবীন।

বিঃদ্রঃ শাফায়াত সম্পর্কে মৌলিক ধারণা লাভের জন্য পড়তে পারেন *বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া* থেকে প্রকাশিত বই - *শাফায়াতঃ পরিচিতি ও দলিল*।

Leave a Comment